মুখোমুখি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

0

6

মুখোমুখি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

  • 0
  • #খোশগল্প
  • Author: Fahad Ahammed
  • Share

( শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাথে রকমারির মুঠোফোনে গ্রহণ করা এই কথোপকথনটি স্মৃতিচারণা হিসেবে অনুলিখন করা হয়েছে। রকমারি হুমায়ূন স্মরণ উৎসব-২০১৬ উপলক্ষে “হুমায়ূন স্মরণ” এ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য সাহিত্যিককে অঢেল কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা )

সমসাময়িক অন্য অনেকের তুলনায় হুমায়ূন আহমেদকে আমার ভালোই লাগত। আমি পড়েছি, তাঁর লেখাও খুব ভালো। বিশেষ করে তার সায়েন্স ফিকশন ও প্রেমের উপন্যাসগুলো অনেক উঁচুমানের। অনেক ভালো সায়েন্স ফিকশন লিখেছেন তিনি। তাঁর শুরুর দিকের উপন্যাসগুলোও অসাধারণ। তাঁর মৃত্যুটা তো অকাল মৃত্যু। এতো তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশে তাঁর জনপ্রিয়তা আমি চোখে দেখে এসেছি। এরকম অসাধারণ জনপ্রিয়তা তো এ যুগে দেখাই যায় না। তাছাড়া, প্রেম-ভালোবাসা তার লেখায় খুব ভালো ফুটত। হুমায়ূন আহমেদ আমার দিক থেকে একজন পছন্দের মানুষ ছিলেন।

 

মানুষ তো আর চিরকাল থাকে না। একজন আসবে একজন চলে যাবে, তার মানে তো সাহিত্য বসে থাকবে না। সাহিত্যে একটা সাময়িক ধারার সৃষ্টি হয়, তারপরে আবার নতুন লেখক আসে, নতুন প্রজন্মের ভাবনা চিন্তা আসে, নতুন দিক দর্শন আসে। ফলে বাংলা সাহিত্য বা যেকোনো সাহিত্যই তো এইভাবে এগোয়। একেকটা সময়ে একেকজন লেখক প্রধান হয়ে ওঠেন। তাঁর অবদান থাকে। সে চির স্মরণীয় হয়, সে অমরত্ব লাভ করে। মানুষ তো অমরত্ব লাভ করতে পারে না, তাকে চলে যেতে হয় শরীর ছেড়ে।

সুতরাং, গ্যাপ একটা হয় বটে, কিন্তু গ্যাপটা আবার সেরে উঠে। কোন শূন্যতাই শূন্য থাকে না, আবার পূর্ণ হয়ে যায়। তবে বলতে পারো, রবীন্দ্রনাথের মত যদি কোন লেখক আসে, তাহলে তাঁর শূন্যতা আর পরবর্তীতে পূরণ করা কঠিন হয়ে যায়, কারণ ওই রকম প্রতিভা তো আর সকলের থাকে না। সাহিত্য তো থেমে থাকবে না, সাহিত্য এগোবেই। এই স্রোতকে অব্যাহত রাখার জন্য, আবার লেখকরা আসেন, তারা এগিয়ে নিয়ে যান তাদের মতো করে, নানান ধারায় সাহিত্য প্রবাহিত হয়, পরিবর্তিত হয়, কিন্তু থামে না। গতিরুদ্ধ হয়ে যায় না। তবে বাংলাদেশে বাংলা সাহিত্যে গতি পেয়েছে হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে।

 

হঠাৎ করে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় আসে হুমায়ূন আহমেদের বাসায় যাবার ঘটনা……

 

বাংলাদেশে যাবার পর একদিন একজন প্রকাশক এসে আমাকে বললেন, যেন ঘুরে যাই, তো ঘুরতে গিয়ে দেখি হুমায়ূন আহমেদ দাঁড়িয়ে আছে তার বাড়ির সামনে আমার জন্য। তাদের আগে থেকে প্ল্যান করা ছিল। বাড়িতে বসলাম, কফি টফি খেলাম। বিস্তর আলাপ হল। এবং সে দুটি মেয়ে আর স্ত্রী এতো সুন্দর চেহারা তাদের, আমি তো দেখে অবাক হয়ে গেছি। খুব সুন্দর পরিবার তাদের। তারপর তো অবশ্য সেই পরিবার ছেড়ে হুমায়ূন আহমেদ আলাদা হয়ে যান, এবং শাওনকে বিয়ে করেন। শাওনের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে এর আগে। তো যাই হোক, এটা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন।

তিনি খুব খুব শিক্ষিত ছিলেন। সে তো তুলনাহীন, খুবই ভালো মানুষ ছিলেন।

 

ব্যক্তি এবং লেখক মূল্যায়নে আমি লেখককেই এগিয়ে রাখব, তার কারণ হচ্ছে একজন ব্যক্তির মানুষ হিসেবে নানান দুর্বলতা থাকে, কিন্তু একজন লেখককে তো তার লেখার দিক থেকে বিচার করব যে, তার হৃদয়টা কি রকম ছিল, তার মননটা কি রকম ছিল, তার জীবন দর্শন কি ছিল, সমাজ চেতনা কি রকম ছিল এই সবই আসল। আর হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে ব্যক্তি পরিচয়ের আগেও তো তার লেখক সত্তাটা জেনেছি, তারপর তার ব্যক্তি পরিচয়টা জেনেছি। গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হল, ব্যক্তির চেয়েও তার সৃষ্টি। বলা হয় যে কবিতা কবির চেয়েও অনেক বেশি শুদ্ধ। সে দিক থেকে অবশ্যই লেখক হুমায়ূন আহমেদ বেশি গুরুত্ব পাবে।

 

– শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

 

Write a Comment