দেখা করে আসুন আপনার প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রটির সাথে

0

10

দেখা করে আসুন আপনার প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রটির সাথে

  • 0
  • #সাহিত্য
  • Author: Zahid Hasan
  • Share

বাংলা সাহিত্যের তুখোড় গোয়েন্দারা :

ইংরেজি সাহিত্যে ডিটেকটিভ বা গোয়েন্দার আগমন বেশ পুরনো হলেও বাংলা সাহিত্যে এর আগমন মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে। এর আগে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অপরাধকাহিনী ও গোয়েন্দা গল্প লেখা হয়। কিন্তু গোয়েন্দা গল্পের যে অপার রহস্যের ভাণ্ডার তা উন্মোচিত হয় আরো পরে।

সে যা-ই হোক,  বাংলা সাহিত্যে এখন দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে তুখোড় সব গোয়েন্দারা। আজ এখানে থাকছে সেরকম পাঁচজন তুখোড় গোয়েন্দার গল্প-

 

তিন গোয়েন্দা

তিনজন কিশোর। যারা রহস্য সমাধানে প্রচন্ড আগ্রহী, তবে রহস্য সমাধানের পাশাপাশি এডভেঞ্চারও তাদের অন্যতম আকর্ষণ। কিশোর পাশা, মুসা আমান এবং রবিন মিলফোর্ড এই তিনজন কিশোরকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে তিন গোয়েন্দার কাহিনী। মাঝেমধ্যে জর্জিনা পার্কার (সংক্ষেপে ‘জিনা’) ও তার কুকুর রাফিয়ান (সংক্ষেপে ‘রাফি’) তাদের অভিযানে সহায়তা করে। তিন গোয়েন্দা ‘গ্রীণ হিলস স্কুল’-এ একই শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। তবে তারা কোন শ্রেণীতে পড়ে, বইতে তার উল্লেখ না থাকায় পাঠক কিশোর-কিশোরীরা তিন গোয়েন্দাকে নিজের শ্রেণীর বলে কল্পনা করে নেয়। কিশোর, মুসা এবং রবিন -তিনজনেই বাস করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রকি বীচ শহরে। তাদের বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী নিয়েই তিন গোয়েন্দা সিরিজ।

 

 

মাসুদ রানা

বাংলাদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের এক দুর্দান্ত দুঃসাহসী স্পাই। গোপন মিশন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশ-দেশান্তরে। বিচিত্র তার জীবন। অদ্ভুত রহস্যময় তার গতিবিধি। কোমল কঠোরে মেশানো নিষ্ঠুর সুন্দর এক অন্তর। একা, টানে সবাইকে,কিন্তু বাঁধনে জড়ায়না। কোথাও অন্যায় অবিচার অত্যাচার দেখলে রুখে দাড়ায়। পদে পদে তার বিপদ শিহরণ ভয়, আর মৃত্যুর হাতছানি।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলার সিরিজ ‘মাসুদ রানা’র নায়ক মেজর রানা তার বস অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রাহাত খানকে এতটাই ভয় পান যে, প্রতিটি পর্বেই রানাকে যখন রাহাত খানের মুখোমুখি হতে হয়, তখনই এরকম দুচার লাইনের বর্ণনা থাকে। এই সিরিজটি গত অর্ধ শতাব্দী ধরে অব্যাহতভাবে প্রকাশ করে আসছেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেন।

 

 

ব্যোমকেশ বক্সী

একেবারে টলস্টয়-এর স্টাইলে বর্ণনা করলে ব্যোমকেশের চেহারা দাঁড়ায়- ধারালো নাক, লম্বা গড়ন, একটু স্থূল মুখমণ্ডল। যাবতীয় জটিল রহস্যের জাল একটার পর একটা খুলে ফেলে সে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল ও শুভ বুদ্ধির দ্বারা। ব্যোমকেশের আছে এক আশ্চর্য বিশ্লেষণী দক্ষতা। সে কথা বলে কম। চেহারাটা বাইরে থেকে এমন করে রাখে যেন সহজে কেউ তার ভেতরটা পড়ে ফেলতে না পারে। ব্যোমকেশের সহযোগী বন্ধু অজিত।

 

ব্যোমকেশ পুলিশের চাকরি না করেই সত্যের অনুসন্ধানে নিজেকে সর্বদা সচেষ্ট রাখে। ১৩৩১ বঙ্গাব্দে কলকাতার চীনাবাজার অঞ্চলে পরপর কয়েকটি খুনের ঘটনার কিনারা করতে ‘বে-সরকারী ডিটেকটিভ’ ব্যোমকেশ বক্সী পুলিশ কমিশনারের অনুমতি নিয়ে অতুলচন্দ্র মিত্র ছদ্মনামে এই অঞ্চলে এক মেসে বসবাস শুরু করেছিলেন।

এই মেসে তাঁর ঘরের অন্য ভাড়াটিয়া অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশের অধিকাংশ গোয়েন্দা গল্পগুলি লিখিয়েছিলেন।

 

এই বাড়িতে ব্যোমকেশ ছাড়া দ্বিতীয় ব্যক্তি তাঁর পরিচারক পুঁটিরাম। ব্যোমকেশের অনুরোধে অজিত এই বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। বাড়ীর দরজায় পেতলের ফলকে লেখা ছিল শ্রীব্যোমকেশ বক্সী, সত্যান্বেষী। সত্যান্বেষীর অর্থ জিজ্ঞাসা করায় অজিতকে ব্যোমকেশ বলেন, ওটা আমার পরিচয়।

 

 

ফেলুদা

ফেলুদা কলকাতার ২১ রজনী সেন রোডে বাস করে। শার্লক হোমসের বিশাল ভক্ত ফেলুদা শারিরীক শক্তি বা অস্ত্রের পরিবর্তে অসামান্য পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও বিরল বিশ্লেষণী দক্ষতার মাধ্যমে রহস্য সমাধান করতে পছন্দ করে। ফেলুদার ট্রেডমার্ক চারমিনার সিগারেট। ফেলুদার সঙ্গী তোপসে ওরফে তপেশরঞ্জন মিত্র, যেকিনা যেকিনা ফেলুদার সব অভিযান লিপিবদ্ধ করে। ফেলুদার বন্ধু জনপ্রিয় লেখক লালমোহনবাবু ‘জটায়ু’ শিরোনামে রহস্য উপন্যাস লেখেন। এছাড়াও ফেলুদার বইতে দেখা পাওয়া যায় সিধুজ্যাঠা, মগনলাল মেঘরাজের।

 

সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট কিংবদন্তী গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদার আসল নাম প্রদোষচন্দ্র মিত্র।

 

 

কাকাবাবু

কাকাবাবুর আসল নাম ‘রাজা রায়চৌধুরী’। কাকাবাবু মধ্যবয়েসি অবসরপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী এক মানুষ যিনি অসম্ভব সাহসী। তিনি ভারত  সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগেরএকজন প্রাক্তন কর্মকর্তা। কাকাবাবু একবার আফগানিস্তানে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পঙ্গু হন। তিনি কিছুদিন সিবিআইএর উপদেষ্টা ছিলেন। তাঁর ভাইপো সন্তু আর সন্তুর বন্ধু জোজোকে নিয়ে অনেক অ্যাডভেঞ্চারে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় । বেশিরভাগ অ্যাডভেঞ্চারই ভারতেরবিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গিয়ে হয় । তাই কাকাবাবুর প্রতিটি উপন্যাসেই নতুন নতুন জায়গার কথা থাকে ।

 

 

কিরীটী রায়

 

কিরীটী। কিরীটী  রায়। নামটা বলা মাত্রই বইয়ের পাতা ফুঁড়ে উঠে আসে ‘ইরেজিস্টেবল’ এক পুরুষ। নীহাররঞ্জন গুপ্তের লেখনি-সন্তান। সত্যসন্ধানী।

চেহারার বর্ণনা— ‘‘প্রায় সাড়ে ছ-ফুট লম্বা। গৌরবর্ণ। মজবুত হাড়ের ফ্রেমে বলিষ্ঠ এক পৌরুষ। মাথা ভর্তি ব্যাকব্রাশ করা কোঁকড়ানো চুল। চোখে পুরু লেন্সের কালো সেলুলয়েড চশমা। নিখুঁতভাবে কামানো দাড়িগোঁফ। ঝকঝকে মুখ। মুখে হাসি যেন লেগেই আছে। আমুদে, সদানন্দ। এবং প্রখর রসবোধ। অসাধারণ বাকচাতুর্য। কিন্তু মিতবাক।’’

এ-ই কিরীটী রায়। যে নামের সঙ্গে ওই চরিত্র এক অনিবার্য আকর্ষণে দুর্দান্ত শরীরী আর জীবন্ত। অসম্ভব উজ্জ্বল তার পুরুষালি উপস্থিতি। প্রত্যেকটা জায়গায়। বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দার এমন হাজিরা বোধহয় সেই প্রথম বার।

Write a Comment